দূরবর্তী ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় জরুরি চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।
১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের হায়দরাবাদ শহরে আমাদের প্রথম ভ্রাম্যমাণ চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় এই উদ্যোগটির নাম ছিল “Blindness Eradication Program”।
প্রথম ক্যাম্পে আমরা ১,৫৬৩ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করি, ২৬৭টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করি, এবং ৪০০টি চশমা বিতরণ করি।
তারপর থেকে আমরা ব্যাপকভাবে এগিয়ে গেছি। আমাদের কার্যক্রমের পরিধি, দক্ষতা, অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, লজিস্টিক পরিকল্পনা এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
আজ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবনে দৃষ্টিশক্তির আলো ফিরিয়ে দিতে কাজ করছি।
আমাদের ভ্রাম্যমাণ চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে জীবন বদলে দেওয়ার মতো চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করি—যার মধ্যে রয়েছে ছানি অপারেশন, বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চশমা বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ। এসব উদ্যোগ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের জীবনকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
এই ক্যাম্পগুলো পরিচালনা করতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং জটিল লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা। আমরা প্রয়োজন, নিরাপত্তা এবং সহজ যোগাযোগের বিষয় বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন করি এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করি, যাতে আমাদের কার্যক্রমের প্রভাব সর্বোচ্চ হয়। এই দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে আমরা প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি এবং সবচেয়ে বেশি উপকার পৌঁছে দিতে পারি প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে।
আমাদের ভ্রাম্যমাণ চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প এশিয়া ও আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়। সাধারণত ৭ দিনব্যাপী এই ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চশমা বিতরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করা হয়।
এই ক্যাম্পগুলো সফলভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা ও লজিস্টিক সমন্বয় প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে:

প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে আমরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আগেই অবহিত করি। এর ফলে অসাধারণ সাড়া পাওয়া যায়—হাজারো মানুষ এমন চোখের চিকিৎসার আশায় উপস্থিত হন, যা অন্যথায় তাদের নাগালের বাইরে থেকে যেত।
আমাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সেইসব রোগীকে শনাক্ত করি যাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে (যার মধ্যে ছানি রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়)। আমরা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সহানুভূতিশীল ও মানবিক সেবা প্রদান করি—যেখানে দীর্ঘ অপেক্ষা বা কোনো ধরনের ফি নেই।

চোখের পরীক্ষা চলাকালীন রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ এবং পড়ার চশমা সঙ্গে সঙ্গেই প্রদান করা হয়।

AL BASAR USA আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিনামূল্যে ছানি ও অন্যান্য সংশোধনী অস্ত্রোপচার প্রদান করে। ছানি বিশ্বজুড়ে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ, এবং আমাদের দক্ষ চিকিৎসক দল এই সমস্যার কার্যকর সমাধান প্রদান করে।
ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প চলাকালীন যেসব রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন শনাক্ত হয়, তাদের একাধিক প্রাক্-অস্ত্রোপচার মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়—যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষা এবং বিস্তারিত চিকিৎসা পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
সব রোগীই আধুনিক ফ্যাকোইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification) প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সুবিধা পান।

আমরা রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের অপারেশন-পরবর্তী পরিচর্যা কর্মসূচি ওষুধ প্রদান এবং তিন ধাপের ফলো-আপ সূচি অন্তর্ভুক্ত করে:
১ম দিন: চোখের প্যাচ/ব্যান্ডেজ অপসারণ
১ম সপ্তাহ: ফলো-আপ পরীক্ষা
৪–৬ সপ্তাহ: চূড়ান্ত ফলো-আপ
এই ফলো-আপ প্রক্রিয়াটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত। আমরা প্রতিটি রোগীকে অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা প্রদান করি, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ এবং ফলো-আপ পরীক্ষা—সবই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।